লাউচাপড়া জামালপুর, বকশিগঞ্জ

মূল পাতা / দর্শনীয় স্থান / ময়মনসিংহ / জামালপুর / লাউচাপড়া জামালপুর, বকশিগঞ্জ

লাউচাপড়া জামালপুর, বকশিগঞ্জ

প্রকাশকালঃ February 8, 2020

কৃতজ্ঞতায়ঃ আদিল হক

শহুরে মানুষদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ঘটে বছরে খুব কম সময়ই। আর তাই ছুটির দিনগুলোকে একান্ত প্রকৃতির সাথে বিলিন করতে প্রকৃতি প্রেমিরা যেতে পারেন জামালপুরের লাউচাপড়া। ওয়াচ টাওয়ারের উপরে উঠে যত দূরে চোখ যায় শুধুই সবুজের বিস্তীর্ণ বিস্তার। থাকার জায়গাগুলো আটসাঁট হলেও মিলবে প্রকৃতির হিমেল ছোঁয়া। ছুটির দিনগুলো কেটে যাবে কাঠ ঠোকরা আর হলদে পাখির কলতানে।

জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জের লাউচাপড়া পাহাড়িকা অবকাশ কেন্দ্রে বেড়াতে গেলে এমন কিছুর সন্ধান পেতে পারেন। বকশিগঞ্জ ছেড়ে যতোই সামনে এগুতে থাকবেন চারিদিকটা যেন ততোই সবুজ। কোথাও কোথাও চলতি পথে সবুজের খেলা দেখতে দেখতে এক সময়ে এসে পৌঁছুবেন এক পাহাড়ের পাদদেশে। চারিদিকে গারো পাহাড়ের সবুজ বন। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকা বাঁকা একটি সিঁড়ি উঠে গেছে একেবারে চূড়ায়। সেখানে আবার রয়েছে মস্তবড় এক ওয়াচটাওয়ার। দশ-বারোটি সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠলে চারিদিকে সবুজ ছাড়া কিছুই আর চোখে পড়েনা। দূরে দেখা যায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশ ছোঁয়া সব পাহাড়। চারিদিকটা কেমন যেন ছবির মতো মনে হয়। এই পাহাড়ি জঙ্গলে আছে নানা জাতের পশু পাখি। ধান পাকার মৌশুমে আবার মেঘালয় থেকে চলে আসে বুনো হাতির দল। কাঠ ঠোকরা, হলদে পাখি, কালিম পাখি আরো কত ধরণের পাখি চোখে পড়বে এখানে এলে। লাউচাপড়ার এ পাহাড় বেড়িয়ে ক্লান্ত হলে নিচে নেমে একটু বসতে পারেন লেকের ধারে। সবুজ ঘাসের মাঝে কৃত্রিম এ লেকটি বেশ সুন্দর। লেকের পাশে কোন গাছের ছায়ায় বসে কাটাতে পারেন কিছুটা সময়। এ সময়টাতে গেলে বেড়িয়ে আনন্দ পাবেন। কেননা পিকনিক মৌসুমে এখানে থাকে পিকনিক পার্টির ভীড়। পুরো জায়গাটি অবসর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে জামালপুর জেলা পরিষদ। এ অবসর কেন্দ্রে প্রবেশে কোন টাকা লাগে না। তবে কোন বাহন নিয়ে গেলে তার জন্য পার্কিং ফি দিতে হবে। পাহাড়তো দেখা হলো, এবার দেখে আসতে পারেন এখানকার উপজাতিদের ছোট্ট একটি গ্রাম। গারো উপজাতিদের এ গ্রামের নাম দিকলাকোনা। এ গ্রামে বাইশ পরিবারে রয়েছে একশ জন গারো। তারা সবাই খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী। গ্রামে প্রবেশের আগে কথা বলতে পারেন এ গ্রামের মাতুব্বর প্রীতি সন সারমার সাথে। ভীষণ সদালাপি এ লোকটির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হবেন আপনি। প্রতিবছর বড়দিন, ইংরেজী নববর্ষ, ইস্টার সানডে উপলক্ষে এ গ্রামে হয় নানান উৎসব। দিকলাকোনা গ্রামের শুরুতেই রয়েছে‘দিকলাকোনা সালগিত্তাল হোস্টেল’। লাউচাপড়ায় রাত কাটানো হতে পারে আপনার জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এখানকার শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ রাতে যেন আরো শান্ত, আরো স্নিগ্ধ।

ঢাকা থেকে দূরত্ব

২২৮ কিলোমিটার

যাতায়াত

বাসঃ 

জায়গাটি জামালপুর জেলার অধীনে হলেও যাওয়ার সহজপথ হলো শেরপুর হয়ে। ঢাকা মহাখালী থেকে সরাসরি শেরপুরে যায় বিভিন্ন  পরিবহনের বাস। ভালো বাস সার্ভিস দেয় সোনার বাংলা পরিবহন । বাস থেকে নেমে রিক্সায় চড়ে যেতে হবে  শেরপুর খোয়ারপার মোড় সেখান থেকে সিএনজি করে বকশীগঞ্জে। সেখান থেকে রিকশা কিংবা ভ্যানে লাউচাপড়া। ঢাকা মহাখালী থেকে সরাসরি বকশিগঞ্জ বাস সার্ভিস আছে জননী, যমুনা, বৈশাখী পরিবহন ।          

ট্রেনঃ 

ট্রেনে ঢাকা থেকে লাউচাপড়া  যাওয়া যায়। ট্রেনে সময় লাগবে ৫-৬ ঘন্টা। কমলাপুর স্টেশান থেকে দেওয়ানগঞ্জ সেখান থেকে অটোতে বকশীগঞ্জ  সেখান থেকে রিকশা কিংবা ভ্যানে লাউচাপড়া।

যানবাহনের সময়সূচি

ঢাকা মহাখালী থেকে শেরপুর সোনার বাংলা ছাড়ে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর সকাল ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত।

ঢাকা মহাখালী থেকে বকশিগঞ্জ জননী  ছাড়ে সকাল ১০টা।

বিশেষ খাবার

জামালপুর জেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার এর নাম মিল্লি এটা ভাতের সাথে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এই এলাকার সবচেয়ে সুস্বাদু আর জনপ্রিয় খাবারের নামই মিল্লি। মিল্লি তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় গরু, খাসি অথবা মহিষের মাংস, চালের গুঁড়া, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরাসহ নানা প্রকার মসলা।

মিল্লি কিন্তু প্রতিদিনের খাবার নয়। কারও মৃত্যু বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খাবার পরিবেশন করা হয়। অনেকে আবার এটাকে ম্যান্দা বা মিলানি নামেও ডাকেন। কেউ ডাকেন পিঠালি নামে। যে নামেই ডাকা হোক, এ খাবার জামালপুরবাসীর প্রিয়। খেলেই শুধু বোঝা যায়, কেন এই মিল্লির নাম শুনলে জিবে পানি চলে আসে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই খাবার সব রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় না। কারও মৃত্যু বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খাবার পরিবেশন করা হয়।

তবে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি মাত্র রেস্টুরেন্টে সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার মিল্লি বা পিঠালি পাওয়া যায় । রেস্টুরেন্টের নাম হচ্ছে “স্বপ্নসিড়ি” এটি বকশীগঞ্জ বাজার এর মধ্য বাজার অবস্থিত।

মিল্লি দেখতে অনেকটা হালিমের মতো। তবে খেতে অন্য রকম। অনেক সুস্বাদু। লাউচাপড়া আসলে না খেয়ে যাবেন না।

হোটেল

  • সার্কিট হাউজ,জামালপুর
    ০৯৮১-৬৩০১১

  • গ্র্যান্ড দেলোয়ারফুলবাড়িয়া, জামালপুর
    ০১৭২-৩২৩০০০২

  • হোটেল আল সামাদপুরাতন বাসস্ট্যান্ড জামালপুর
    ০৯৮১-৬৩৪০১

  • হোটেল সানোয়ার ইন্টারন্যাশনাল,মেডিকেল রোড,জামালপুর
    ০১৭২৫২৪৬৯৬০

সাবধানতা

পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পরে গাড়ি পাওয়া যায় না তাই সন্ধ্যার আগেই ঘুরা শেষ করুন।

গাইড ভাই এ দেওয়া সকাল যানবহনের সময় ও খরচ পরিবর্তশীল, আমরা চেষ্টা করি আপডেট রাখার, এরপরও বাস স্টেশান, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েব সাইট ও নিজে গিয়ে সকল যান বহনের সময় ও খরচ জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ছবি

ভিডিও

খরচ পর্যালোচনা

বাসঃ

ঢাকা মহাখালী থেকে সরাসরি শেরপুরে যায় বিভিন্ন  পরিবহনের বাস। ভাড়া ২৫০-৩৫০ টাকা। ভালো বাস সার্ভিস দেয় সোনার বাংলা পরিবহন      ভাড়া ৩০০ টাকা। বাস থেকে নেমে রিক্সায় চড়ে যেতে হবে  শেরপুর খোয়ারপার মোড় সেখান থেকে সিএনজি করে বকশীগঞ্জে ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা। সেখান থেকে রিকশা কিংবা ভ্যানে লাউচাপড়ার ভাড়া জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা।

ট্রেনঃ 

ট্রেনে ঢাকা থেকে লাউচাপড়া  যাওয়া যায়। ট্রেনে সময় লাগবে ৫-৬ ঘন্টা। কমলাপুর স্টেশান থেকে দেওয়ানগঞ্জ ভাড়া জনপ্রতি ১১০-৫০০ টাকা সেখান থেকে অটোতে বকশীগঞ্জ  ভাড়া ৪০ টাকা জনপ্রতি।  সেখান থেকে রিকশা কিংবা ভ্যানে লাউচাপড়া ভাড়া ৫০ টাকা।

টিপস এন্ড ট্রিকস

বকশিগঞ্জ থেকে রিক্সা বা ভ্যান রিজার্ভ করতে পারেন ৩০০-৪০০ টাকায়। এতে করে পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরাঘুরি করতে অসুবিধা হবে না।

উপরের তথ্য সম্পর্কে মতামত দিন, কোন তথ্য ভুল থাকলে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।
Language