হযরত শাহ জামাল রহঃ পবিত্র মাজার শরীফ

মূল পাতা / দর্শনীয় স্থান / জামালপুর / হযরত শাহ জামাল রহঃ পবিত্র মাজার শরীফ

হযরত শাহ জামাল রহঃ পবিত্র মাজার শরীফ

প্রকাশকালঃ May 8, 2020

কৃতজ্ঞতায়ঃ আদিল হক

১৫৮৬ খ্রি: সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হযরত শাহ জামাল (রহ) ধর্ম প্রচারের জন্য অত্রাঞ্চলে আগমন করেন।

এই সুফি দরবেশ সুদূর মধ্যপ্রাচ্যর ইয়েমেন থেকে এসে খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদতীরে আস্তানা স্থাপন করেন। হযরত শাহ জামাল (রহ) একজন পীর কামেল লোক ছিলেন। তার আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও অলৌকিক ক্ষমতার কথা দিল্লির মুঘল দরবার পর্যন্ত পৌছে যায়। ঐ সময় বাদশা আকবর হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর খানকার ব্যয়ভার বহন করতে ইচ্ছা পোষণ করে এবং সিংহজানির অধীনে কয়েকটি পরগনা পীরপাল দানের সনদ পাঠায়।

তবে, এই লোভনীয় প্রস্তাব সুফি দরবেশ হযরত শাহ জামাল (রহঃ) অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যাণ করেন। পরবর্তীতে তার নামে অত্রাঞ্চলের নামকরণ জামালপুর হয়।

জামালপুর শহরের ব্রক্ষ্রপুত্র নদের তীরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সন্নিকটে সুফি দরবেশ হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর মাজার শরীফ অবস্থিত। মাজারটি বর্তমানে আধুনিক নির্মাণ শৈলীতে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত জিয়ারত ওবিভিন্ন উদ্দেশ্যে মান্নতে  ছিন্নি দিতে আসে। মাজার সংলগ্ন একটি সুন্দর মসজিদ রয়েছে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নাজাম আদায় করা হয়।

ঢাকা থেকে দূরত্ব

রেলপথে দূরত্ব ১৭৭ কিঃমিঃ এবং সড়ক পথের দূরত্ব ২০০ কিঃমিঃ।

যাতায়াত

বর্তমানে ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে জামালপুরে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে রেলপথে জামালপুরের দূরত্ব ১৭৭ কিঃমিঃ এবং সড়ক পথের দূরত্ব ২০০ কিঃমিঃ। জামালপুর থেকে ৪টি আন্ত:নগর ট্রেন, ২টি বিআরটিসি বাস সহ বেসরকারী ২টি ট্রেন ও কয়েকটি বাস নিয়মিত চলাচল করে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে আসতে হলে কমলাপুর স্টেশন থেকে আসতে হবে। ট্রেনের সময় সূচী এখান থেকে দেখে নিন

ঢাকা থেকে বাসে আসতে হলে মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে আসতে হবে। মহাখালি থেকে ২টি বিআরটিসি বাস সহ বেসরকারী কয়েকটি বাস নিয়মিত চলাচল করে। ভাড়া ৩০০/- থেকে ৪০০/- টাকা ।

জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় এর সন্নিকটে সুফি দরবেশ হযরত শাহ জামাল (রহঃ) এর মাজার শরীফ  অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন বা জেলা বাস স্টেশন হতে রিক্সা বা ইজিবাইকে করে আসা যায়।

যানবাহনের সময়সূচি

ট্রেনঃ

ট্রেনের সময় সূচী এখান থেকে দেখে নিন

বাসঃ

সকাল ১০ টা বি আর টি সি ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে।

এছাড়া ১ ঘণ্টা পরপর বেসরকারী কয়েকটি বাস নিয়মিত ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে।

বিশেষ খাবার

জামালপুর জেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার এর নাম মিল্লি এটা ভাতের সাথে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এই এলাকার সবচেয়ে সুস্বাদু আর জনপ্রিয় খাবারের নামই মিল্লি। মিল্লি তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় গরু, খাসি অথবা মহিষের মাংস, চালের গুঁড়া, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরাসহ নানা প্রকার মসলা।

মিল্লি কিন্তু প্রতিদিনের খাবার নয়। কারও মৃত্যু বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খাবার পরিবেশন করা হয়। অনেকে আবার এটাকে ম্যান্দা বা মিলানি নামেও ডাকেন। কেউ ডাকেন পিঠালি নামে। যে নামেই ডাকা হোক, এ খাবার জামালপুরবাসীর প্রিয়। খেলেই শুধু বোঝা যায়, কেন এই মিল্লির নাম শুনলে জিবে পানি চলে আসে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই খাবার সব রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় না। কারও মৃত্যু বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খাবার পরিবেশন করা হয়।

তবে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি মাত্র রেস্টুরেন্টে সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার মিল্লি বা পিঠালি পাওয়া যায় । রেস্টুরেন্টের নাম হচ্ছে “স্বপ্নসিড়ি” এটি বকশীগঞ্জ বাজার এর মধ্য বাজার অবস্থিত।

মিল্লি দেখতে অনেকটা হালিমের মতো। তবে খেতে অন্য রকম। অনেক সুস্বাদু। জামাল্পুর আসলে না খেয়ে যাবেন না।

হোটেল

  • সার্কিট হাউজ,জামালপুর
    ০৯৮১-৬৩০১১

  • এল,জি,ই,ডি (রেস্ট হাউজ) জামালপুর
    ০৯৮১-৬৩৬৯৮

  • বি ডি আর রেস্ট হাউজজামালপুর
    ০৯৮১-৬৫০১৭

  • গ্র্যান্ড দেলোয়ারফুলবাড়িয়া, জামালপুর
    ০১৭২-৩২৩০০০২

  • হোটেল আল সামাদপুরাতন বাসস্ট্যান্ড জামালপুর
    ০৯৮১-৬৩৪০১

  • হোটেল সানোয়ার ইন্টারন্যাশনাল,মেডিকেল রোড,জামালপুর
    ০১৭২৫২৪৬৯৬০

সাবধানতা

রাতে ঘুরাঘুরিতে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

গাইড ভাই এ দেওয়া সকাল যানবহনের সময় ও খরচ পরিবর্তশীল, আমরা চেষ্টা করি আপডেট রাখার, এরপরও বাস স্টেশান, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েব সাইট ও নিজে গিয়ে সকল যান বহনের সময় ও খরচ জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

খরচ পর্যালোচনা

ঢাকা থেকে যাওয়া আসা এবং খাওয়া সহ ২ দিনের ভ্রমনে ১৫০০/-  থেকে ২৫০০/- টাকা খরচ হবে।

উপরের তথ্য সম্পর্কে মতামত দিন, কোন তথ্য ভুল থাকলে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ।
Language